My Stories

(অ) ধরা মাধুরী

 

তাদোবা জাতীয় উদ্যান – চন্দ্রপুর, মহারাষ্ট্র, ২৬শে মার্চ, ২০১৬, সকাল বেলা।

এটা তৃতীয় সাফারি – আমরা এসেছি মূল জঙ্গলের বাইরে – বাফার জোনে। গত দুদিনে সকালে আর বিকেলে দুটো সাফারি  করা হ’ল। ভারতীয় গৌড় (ভারতীয় বাইসন বা বুনো মোষ), ঢোল (বুনো কুকুর), চিতল, সম্বর, বুনো শুঁয়োর, হনুমান সব দেখা হয়েছে – ছবি নিয়েছি। পাখীও যা দেখা হোল কাক-শালিক-বুলবুলি বাদে – সবই আমার চেনা জানা – গাছে পাপিয়া (Common Hawk Cuckoo), দোয়েল (Oriental Magpie Robin), বাঁশপাতি (Green Bee-eater), নীলকন্ঠ (Indian Roller), ফিঙে (Black Drongo), বড় মাছমোরাল (Grey-headed Fish Eagle), জলার ধারে – পানকৌড়ি (Cormorant), কোঁচ বক (Indian Pond Heron), সোনাজঙ্ঘা (Painted Stork), কাল কাস্তেবক (Black Ibis), শামুখখোল (Open-billed Stork), মাটিতে চুনো বটের (Jungle Bush Quail)। এর মধ্যে কাল কাস্তেবকটা  আগে চাক্ষুষ দেখি নি।

ও হ্যাঁ – আসল কথাই তো বলি নি – বাঘ দেখেছি। বাঘ থাকার সম্ভাব্য স্পটগুলোতে ঢুঁ মারা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে না। জঙ্গলে বাঘ দেখতে পাওয়া নাকি ভাগ্যের ব্যাপার। হঠাৎ আমাদের গাইড সঞ্জয় মুন্ডে মোবাইলে সতীর্থদের কাছে খবর নিয়ে জীপের সারথিকে মারাঠীতে কি সব বলল। সারথি ভাই জীপ ঘুরিয়ে সাঁই সাঁই করে চলল কত নম্বর জানি এক ট্যাঙ্কের কাছে। গিয়ে দেখি বেশ পাঁচ ছ’টা জীপ এরই মধ্যে জলার ধার জুড়ে মালার মতন দাঁড়িয়ে আছে আর আরোহীদল হৈ হৈ করে আঙ্গুল তুলে এ ওকে দূরে কি দেখাচ্ছে। আমাদের জীপটা একটু পেছনে। সঞ্জয় দাঁড়িয়ে এদিক ওদিক একটু তাকিয়ে বলল জলার দূরে ঐ পারে একটা গাছের গুঁড়ি মাটিতে – তার পাশে শুয়ে আছে। আমরা দু’জনে সঞ্জয়ের নেতাজীর মতন আঙ্গুল দেখানোর দিকে বরাবর দেখার চেষ্টা করে যাচ্ছি – চোখের ওপর হাত দিয়ে ঢেকে, ১০x৫০ বাইনাকুলার দিয়ে স্ক্যান করে, জুম ক্যামেরা প্যান করে – কাকস্য পরিবেদনা। বাঘ বাদে সবই দেখতে পাচ্ছি। সামনের জীপগুলোর ছেলেমেয়ে, পুরুষমহিলা, মায় আমাদের মতন বুড়োবুড়িরাও বাঘ দেখে ফেলল। তাও আবার একটা না দু-দুটো। একটা জীপে আবার মাথায় টুপি জঙলা প্রিন্টের টিশার্ট পরা দুই ফটোগ্রাফার তেপায়া স্ট্যান্ডে ফুট খানেক লম্বা লেন্সওয়ালা ক্যামেরা তাক করে ছবি তুলছে।   

এর মধ্যে একটা জীপ বেরিয়ে চলে যাওয়াতে জলার সামনেটা ফাঁকা হোল আর আমাদের ড্রাইভার সাঁই করে গাড়িটা ঘুরিয়ে ফাঁকা যায়গাটায় সেট হয়ে গেল। এমন সময়ে সবার হৈ হৈ আর সঞ্জয়ের কথাতে বুঝলাম একটা নাকি উঠে দাঁড়িয়েছে। এবার খানিক কসরত করতেই দাঁড়ানো বাঘটা নজরে এল। গিন্নি তাড়াতাড়ি বাইনাকুলারটা আমার হাত থেকে কেড়ে নিয়ে দেখতে আরম্ভ করল। আমি এবার ক্যামেরা নিয়ে ছবি তোলা শুরু করলাম। প্রায় অনেকটা জুমে গিয়ে ছবি নিতে হ’ল। ইতি মধ্যে গাছের গুঁড়ি জাপটে শোয়া বাঘটাকেও দেখতে পেলাম। এটা বড় বাঘ – দাঁড়ানোটা ছানা। কানে এল গিন্নির উল্লাস – ‘পেয়েছি, পেয়েছি দুটোই পেয়েছি’। যাক জঙ্গলে বাঘ তা হ’লে দেখা হ’ল।

প্রায় এক ঘন্টাতো এখানেই কাটল। এবার ফিরতে হবে অনেকটা পথ। অন্য জীপগুলো সব এগিয়ে গেছে। সঞ্জয় আমাদের একটু অন্য একটা ঘুরপথ দিয়ে নিয়ে চলল। ফাঁকা জঙ্গলের মাটির রাস্তা। লম্বা ঘন গাছের সারির মাথায় সূর্য ঢলতে আরম্ভ করেছে। আলোও কমে এসেছে। চারিদিকে বেশ একটা ছমছমে পরিবেশ। এ পাশে ও পাশে মাঝেসাঝেই চিতল, সম্বর দু’একটা দেখা যাচ্ছে। ধুস কে ও সব দেখে। বিশাল এক জলার পাশ দিয়ে চলেছি। দু’জনেরই মন বেশ খুশি খুশি। সঞ্জয়ও খুশি – তার মক্কেলদের বাঘ দেখাতে পেরেছে। হঠাৎ ওর নির্দেশে ড্রাইভার জীপটাকে রাস্তার ধার ঘেঁষে দাঁড় করাল। জলার ও পারে বাঘ এসেছে জল খেতে। একেই বলে মেঘ না চাইতে জল। এবার একবারেই দেখতে পেলাম। বাঘ বাহাদুর জলটল খেয়ে জলার ধারে বিশ্রাম করতে বসল। ধীরে সুস্থে কয়েকটা ছবি নিলাম। তবে অনেকটা জুম আর কম আলো – মনপসন্দ ছবি হোল না। যাক গে আমাদের পক্ষে এই ক্যামেরায় (Nicon Coolpix P610) এই যথেষ্ট। পরদিনও সকালের সাফারিতে বাঘের দর্শন  মিলল ঐ প্রথম যেখানে দেখেছিলাম – সেই জলার ওপারে গাছের গুঁড়ির পাশে। বাঘ দেখাটা এখন জলভাত হয়ে গেছে। কিছুক্ষন দেখে অন্য রুটে চলে গেলাম।   

আজকের এই বাফার জোনটা মূল জঙ্গল এলাকার বাইরে। ১৯৫৫ সালে ১১৬.৫৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা নিয়ে তাদোবা জাতীয় উদ্যানের প্রতিষ্ঠা। ১৯৮৬ সালে এর সাথে আরও ৫০৮.৮৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে Tadoba-Andhari Wild Life Sanctuari  গড়ে তোলা হয়। ১৯৯৫তে এর মধ্য থেকে ৬২৫.৪০ বর্গ কিলোমিটার Tadoba-Andhari Tiger Project এর জন্য সংরক্ষিত হয়। এই এলাকার চতুর্দিকে প্রায় ১১৫০ বর্গ কিলোমিটার যায়গা বাফার জোন হিসাবে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। যা হোক আমরা জুনোনা বাফার জোনে সাফারির জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় জীপ নিয়ে প্রবেশ করলাম। আজকে আর সঞ্জয় থাকছে না। ওর এলাকা মূল জঙ্গলে। অবশ্য প্রয়োজনীয় সমস্ত রকম ব্যবস্থা ওই করে দিল। ওরই চেনা বিশ্বস্ত ড্রাইভার আর গাইড। জঙ্গলে ঢুকতে প্রায় ছটা বেজে গেল। এই বাফার জোনেও মাঝে মাঝে বাঘ আসে। তবে আজ আর বাঘে ততটা আকর্ষণ নেই। দেখতে পেলে দেখব এ পর্যন্ত। না পেলেও ক্ষতি নেই – দু’দিন যা দেখেছি প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে। আমার আজকের মূল আকর্ষণ পাখী। জীপটা আস্তে আস্তে চালাতে বলেছি। আমি ক্যামেরা নিয়ে এ গাছ, সে গাছ, এ ডালে সে ডালে নজর লাগাচ্ছি। সাদাবুক মাছরাঙা (White-throated Kingfisher), নীলকন্ঠ, ফিঙে, তিলেঘুঘু (Spotted Dove), হাট্টিট্টি (Red-wattled Lapwing) এদের সব ছবিতো আগে অনেক নিয়েছি। একটা জায়গায় জীপ এসে থামল। সামনে আর রাস্তা নেই – একটু দূরে বড় জলা। বাইনাকুলারে দেখলাম ডাহুক (White-breasted Waterhen), কায়েম (Purple Swamphen), জলপিপি (Bronze-winged Jacana)। গাছের ওপর পানকৌড়ি উড়ে এসে বসল। ছবি নিলাম বেশ কিছু তবে কেন জানি না ভাল এল না। প্রায় ৫০x জুমের বেশি চলে যেতে হচ্ছিল। বেশ কিছুক্ষণ থেকে অন্য পথে চললাম। গাইডটা ভাল তবে সঞ্জয়ের মত দক্ষ নয়। এক যায়গায় ডালে হঠাৎ ফিতে বুলবুল বা দুধরাজ (Asian Paradise-Flycatcher) দেখে রোক্কে, রোক্কে করে জীপ থামাতে বললাম। ক্যামেরা অন করে ছবি তুলতে যাব, বেটা সাঁট করে উড়ে গিয়ে এমন যায়গায় বসল যে সামনে একটা ছোট ডাল অনেকটাই আড়াল করে দিল। এখন আর এখান থেকে নড়ছি না। এই একটা ছবি তুলতে পারলেই তাদোবা ভ্রমণ পুরো সার্থক। পাখীটা উড়ে উড়ে এ ডালে সে ডালে যাচ্ছে কিন্তু এত পাতার আড়ালে যে ক্যামেরাতে ধরা যাচ্ছে না। প্রায় মিনিট পনেরো হয়ে গেল। এবার আবার পাতার আড়াল থেকে বেরিয়ে উড়ে যে কোথায় গেল আর দেখতে পেলাম না।    

মনের দুঃখে এগোতে লাগলাম। এক যায়গায় মাটিতে দেখি দামা – পাতার ঝোপে পোকা খুঁজছে। দামা (Orange-headed Thrush) ভাল পাখী। মাটিতেই বেশি থাকে। ছটফট করে না। নানান এঙ্গেলে ছবি নেওয়া গেল। আবার সামনের ডালে এক জোড়া বামুনি শালিক (Brahminy Starling)। ছবি নিয়ে আস্তে আস্তে এগোচ্ছি। আমরা বরাবরই জীপের সীটের ওপর দাঁড়িয়ে। আমি আবার পেছন ফিরে এ দিক ও দিক দেখছি। হঠাৎ জীপটা থেমে গেল আর গাইড চাপা গলায় বলে উঠল –‘বৈঠ যাইয়ে, বৈঠ যাইয়ে, একদম চুপ রহিয়ে’। সামনে বেশ একটু দূরে দেখি একটা বাঘ আর দুটো ছোট ছানা সামনের রাস্তা ধরে আমাদের জীপের দিকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে আসছে। আর আমাদের অবস্থা – কি রকম ফ্রিজ শট হয়ে গেছি, তাকিয়ে থাকা সমাধি – মন, বুদ্ধি সব লোপ পেয়ে গেছে। চেতনা ফিরে এল গাইডের চাপা গলার কথায় – আমায় বলছে যে আমার কোমরে যে একটা লাল রঙের বেল্ট ব্যাগ আছে সেটা খুলে ফেলতে। আমি তাড়াতাড়ি বেল্ট ক্লিপ খুলে ব্যাগটা সিটের নীচে ফেলে দিলাম। লাল রঙ বাঘের আকর্ষণের কারণ হতে পারে – তাই এই সাবধানতা। ইতি মধ্যে বাঘ তার ছানাসহ অনেকটাই এগিয়ে এসেছে। গাইডের কথায় জানলাম ইনি বাঘ নন – বাঘিনী, নাম মাধুরী। দিনকয়েক ধরে একে বাফার জোনের এই অঞ্চলে দেখা যাচ্ছে।  গাইড আর ড্রাইভার দু’জনেই এ সব ব্যাপারে অভিজ্ঞ – জানালো যে চুপচাপ থাকলে বাঘ কিছু করেনা – আপন পথে যেমন আসছে তেমনই চলে যায়। এখন গাইড ও ড্রাইভার দু’জনেরই বিশ্বাস বাঘ কিছু করবে না। আমাদেরও ধারণা বাঘ কিছু করবে না। কিন্তু ইনি আবার বাঘিনী – এর মনে কি আছে সেটা দেবা ন জানন্তি কুতো আমরা। গাইড আমাকে সাহস দিয়ে বলল ক্যামেরাতে ছবি নিয়ে যেতে। আমি হ্যাঁ হ্যাঁ করে তাড়াতাড়ি ক্যামেরা অন করে ফ্রেমিং করতে আরম্ভ করলাম। যা তা সব ছবি হচ্ছে। ভিডিও মোডে ছবি নেবার কথা মাথাতেই এল না। হাত নড়ে যাচ্ছে। একবারতো শাটার টিপতে গিয়ে  ক্যামেরার সুইচটাই অফ করে দিলাম। আবার অন করে ছবি নিতে গিয়ে দেখি আমাদের জীপ থেকে প্রায় পনেরো ফুট দূরে মাধুরী এসে গেছে। এত কাছে বাঘ আগে এক চিড়িয়াখানায় দেখেছি খাঁচার গরাদের ওপার থেকে। আর এটা সম্পূর্ণ খোলা জীপ। আশেপাশে একটি কাক-প্রাণীও নেই। কিন্তু এই অনুভূতিতো সম্পুর্ণ আলাদা। আমাদের দু’জনেরই অবস্থা সঙ্গিন – সঙ্গিনী আমার জ্যাকেটটা শক্ত মুঠিতে খামচে ধরে আছে।  চোখের সামনে তিনটে হাড়িমুখ। একটা মোটা কেঁদো – আর দুটো বেশ গাবলু। আশ্চর্য এখন আর আমাদের কোন ভয় করছে না। কিছু ভাবছিও না। সজ্ঞানে আছি না অজ্ঞানে আছি জানি না। হঠাৎ মাধুরীদেবীর কি খেয়াল হোল – ডাইনে মোচড় মেরে ছানা সমেত জঙ্গলের ভেতর ঢুকতে আরম্ভ করল। আমার আর আমার সঙ্গিনীর মুখ দিয়ে একসাথে জোড়ে শ্বাস পড়ল। বুকের ধক ধক শুনতে পাচ্ছি। তবে কি এতক্ষণ হৃদযন্ত্র বন্ধ ছিল? কে জানে খেয়াল তো করি নি। মাধুরীতো জঙ্গলে ঢুকে গেল আর আমরা পারি তো একেবারে জীপ থেকে নেমে ওকে খোঁজার জন্য জঙ্গলে ঢুকি আর কি। গুপী-বাঘার মতন এখন নাচতে ইচ্ছে করছে – বাঘা রে ভাগা রে।     

 প্রায় মিনিট পাঁচেক কেটে গেল। গাইড বলল যে বাঘিনী হয়তো ছানাদের নিয়ে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে জলার দিকে যাবে জল খাবার জন্য। কিন্তু না – মাধুরীদেবী আবার বেরিয়েছেন। আমাদের জীপের পেছনে প্রায় ২০-২৫ ফুট দূরে আবার রাস্তা ধরে রাজকীয় ভঙ্গিমায় চলেছে কিন্তু ছানা দুটো নেই। তা হ’লে বোধ হয় বনের ভেতর ছানাদের পাঠশালা আছে – সেখানে ওদের পৌঁছিয়ে দিয়ে মাধুরী হয়তো বাজারে বা পার্লার-টার্লারে যাবে। যা হোক একটু হাওয়া বুঝে আমাদের ড্রাইভার জীপ খুব সন্তর্পনে ঘুরিয়ে নিয়ে পেছনে পেছনে যেতে আরম্ভ করল। কিছুটা যাবার পর মাধুরী রাস্তার ধারে একটা গাছে ফেরোমোন ছেটাল। ইস ছবিটা নিতে নিতেই কাজ শেষ। এবার এগিয়ে ঘাড় ঘোরাল। আমরাও থেমে গেলাম। মাধুরী রাস্তা ছেড়ে জঙ্গলে ঢুকে গেল। প্রায় মিনিট পনের অপেক্ষা করা হোল।  নাঃ আর দেখা গেল না। এখন কি করব?

গাইড বলল যে এশিয়ার যেটা বর্তমানে সব চেয়ে আকারে বড় সেই বাঘ নাম – ওয়াঘদো – সেটা এখানেই একটা জলের চৌবাচ্চায় সকাল বেলাটা শুয়ে থাকে। চল তা হলে দেখা যাক, যদি দেখতে পাওয়া যায়। গাড়ী চলল ১৭৫ নম্বর চৌবাচ্চার দিকে। যায়গা মতন পৌঁছে দেখি পাঁচ-ছটা জীপ বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে আছে। তেপায়া স্ট্যান্ডে ইয়া ইয়া ক্যামেরা লাগান রয়েছে। সাহেব-মেমও রয়েছে। যথারীতি আমাদের জীপ সবার পেছনে। ওয়াঘদো তার প্রিয় চৌবাচ্চায় শুয়ে আছে। আমরা অবশ্য দেখতে পাচ্ছি না। ড্রাইভার গাড়িটাকে এ দিক ও দিক করে আরও পেছনে রাস্তার ধারে একটু উঁচু মতন যায়গায় সেট করে দিল। হ্যাঁ এবারে বাইনাকুলার দিয়ে স্পষ্ট দেখা গেল। যদিও অনেকটা পেছন থেকে দেখছি – তো ঠিক আছে। বাইনাকুলার আছে, জুম ক্যামেরা আছে – অসুবিধাতো হচ্ছে না। একেবারে বাঘের থুতনি নেড়ে দেখতে হবে কে বলেছে? বাপ রে কি বিশাল। বাঘ বটে একখানা। তিনশ কুড়ি কিলোগ্রামের বেশী নাকি ওজন – আর নাকের ডগা থেকে লেজের প্রান্ত পর্যন্ত এগার না সাড়ে এগার ফুট বলেছিল মনে নেই। তা, কে আর ওকে নিয়ে দাঁড়িপাল্লায় ওজন করেছে বা ফিতে দিয়ে মেপেছে। সবইতো এস্টিমেট, নয়তো আন্দাজে যাকে বলে গেস্টিমেট। লঙ শট, ক্লোজ আপ, ভিডিও কত ছবি নেবে নাও না। বেশ কিছুক্ষণ থেকে এবার ফেরার পালা। ঘণ্টাখানেকের বেশী লাগবে এখান থেকে আমাদের রেসর্টে ফিরতে। এবারে জানা গেল আমাদের গাইড এবং ড্রাইভার এত বছর এ কাজ করছে কিন্তু এই প্রথম খোলাখুলি এত সামনে থেকে বাঘ দেখল। তাই মুখে বাঘ কিছু করবেনা বলে আমাদের সাহস দিলেও ওরা নিজেরাও বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিল। আমরা এবার তাদোবা ভ্রমণের সার্থকতা নিয়ে মহা উৎসাহে আলোচনা করতে করতে ফিরে চললাম।