My Poems

 আরও লিমেরিক

(১)

পদার্থ বিদ্যায় আমি অপদার্থ

যেইখানে হাত দিই সেইখানে ব্যর্থ।

খুসী মনে আমি তাই

লিমেরিক লিখে যাই

না থাকুক তাতে কিছু অর্থ-অনর্থ।

 

(২)

বুড়ো হাড় বায়ু-কফ-শ্লেষ্মায় ভরা

বহিতে পারি না বড় কাব্যের ঘড়া।

ভারী ভারী ভাব ভাষা,

এ ব্যাপারে আমি চাষা –

মোল্লার দৌড় তাই লিমেরিক ছড়া।

 

(৩)

লিকলিকে লিমেরিক ধিকিধিকি চলে

কাব্যের ব্রডগজে চাপা পড়ে তলে।

দুরন্ত- রাজধানী –

দূর হ’তে হাতছানি,

ধীরে চলে তাড়া নেই, তাতে মেওয়া ফলে।

 

(৪)

কাছা ধরে টেনোনাকো কাছা গেলে খসে

আমি রব পথমাঝে বোকা হয়ে বসে।

চারিদিকে হাঁচিকাশি

খুক খুক চাপা হাসি,

স্বখাত সলিলে আমি ডুবি নিজ দোষে।

 

(৫)

লিমেরিক ঘুড়ি নয় সুতো ছেড়ে যাব,

এত ক্যাপাকাইটি কোথা হতে পাব?

পকেটেতে দুটো টাকা

তাই নিয়ে চলি কাকা

ভাইপোর দুর্দশা একটু কি ভাব?

 

(৬)

ঝুটা-মুটা রতনেরে শুধু শুধু জমানো

সত্যকে সার জেনে বোঝা চাই কমানো।

খালি হাতে যেতে হবে,

এটা সদা মনে রবে –

এহি হ্যাঁয় সচ বাত, মানো ইয়া না মানো।

 

(৭)

জিনিয়াস কবিদের কেন পড় পিছে?

কামড়ালে জ্বালা করে প্রতিভার বিছে।

সবই যদি বোঝো হায় –

আঁতেলরা কোথা যায়?

ডাডাগিরি, আভা-গাঁর্দে সবই কি মিছে?

 

(৮)

ভর দুপুরে খেতে গেছি উল্টোডাঙা বাজারে,

খাবার দোকান নাম দিয়েছে ‘আজা রে, খা যা রে’।

গরমাগরম পোলাও দমকা –

রায়তা সাথে চিঙড়ি চমকা,

গ্যারান্টি দেয় নড়বে পাতে, চিঙড়ি এমন তাজা রে।

 

(৯)

বামুন ঠাকুর খুড়ো আমার রাধেন নাকি ভাল,

খুড়িমা মোর ক্যাশে বসেন – দোকান করে আলো।

পাঁচশ-হাজার ঝামেলা নেই –

খাবার মেলে ধার-বাকিতেই,

রবিবারে চীনে-স্পেশাল পয়সা যদি ঢালো।

 

(১০)

কে বলেছে শীত পড়ে না? শীত পরেছে থানেতে

চাদরে তাই জড়িয়ে আছি গলা, মাথা, কানেতে।

সর্দি নাকে, গলায় কাশি,

ফুসফুসেতে বাজছে বাঁশী,

এ বার বোধহয় দিন ফুরুল, টান পড়েছে জানেতে।

 

(১১)

বদ্যিমশাই বিধান দিল নাক্স ভমিকা থাট্টি

কফি-তামাক চলবে না আর ওদের সাথে কাট্টি।

হাতে-পায়ের গাঁটে ব্যাথা

কাঁথার ওপর চাপছে কাঁথা

সময় হোল মুসাফিরের বাঁধবে এবার গাঠঠি।

(১২)

গো+এষণা করে শেষে পেলে কি গোমন্ত্র?

কবচেতে পুরে দিয়ে বেচিবে গোযন্ত্র।

ঘিলু হোল তুলতুলে,

শিং হোল রগ ফুলে,

পেটেতে গজাল নব ঘাস-খাবার অন্ত্র।

 

(১৩)

গোপূজার প্রতি কোন কালে মতি, ভক্তি বা প্রীতি নাই।

গোধূমের রুটি গোবিন্দভোগ মহা সুখেতে খাই।

গোবরা গণেশ গোয়েন্দাসম

গোএষণা ছিল জীবিকা মম

গোমুখ্যু আমি গোযানে চড়িয়া গোলোকধামেতে যাই।

 

(১৪)

মজা লুঠতেই শুধু এ জগতে আসা

ডুব দিয়ে দেখি না, শুধু স্রোতে ভাসা।

খেয়ালের ডানা মেলে

দিন কাটে হেসে খেলে

জীবনের তুবড়িটা স্ফুর্তিতে ঠাসা।

 

(১৫)

ব্রকোলি কিসে দেয় – স্যালাড না পাস্তা,

ব্রকোলি কখন খায় – ডিনার না নাস্তা।

ওবামা সুখে খায়

বুশ দেখে ক্ষেপে যায়,

ওভেনেতে ব্রকোলি দিলে হয় খাস্তা”।

 

(১৬)

ঘোর অমাতিমির শাঙন যামিনী

থমকে চমকিছে দমকে দামিনী।

মাধব তোঁহা লাগি,

নিদহীন নিশি জাগি,

চলতহি ব্রজবালা ধীরজগামিনী।

 

(১৭)

দিন অবসানে বিবস্বান অস্তাচলে

যবে গেলা, ফুটিলা পঙ্কজ দলে দলে।

স্মিত আস্যে নিশানাথ,

বরষিল তারি সাথ,

স্নিগ্ধ আলোকধারা সরসী সলিলে।

 

(১৮)

নিশার স্বপন আসি আলিঙ্গিলা মোরে,

মদিরাসক্ত আঁখিদ্বয় কি নেশার ঘোরে

ক্লান্তিতে অবশিত

তনু, হইল পতিত

শয্যাপরে, যেমতি প্রভঞ্জনে পাদপ ঝরে।

 

(১৯)

প্রভাতের শুকতারা উদিল গগনে যবে

মুখরিত ধরাতল বিহঙ্গ-কাকলি রবে,

কাননে ফুটিল ফুল

জুটিল অলির কুল,

মলয়ানিলে শিহরি ধরা, রহিল নীরবে।

(২০)

ফেসবুকে সেভ করা এ যুগের রীতি

কাব্যের নব নাম ফেসবুক-গীতি।

মাসিপিসী সবাকারি –

ফেসবুকই ঘর-বাড়ী,

আপাতত লিমেরিকে এইখানে ইতি।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s