Unfinished FIR

অসমাপ্ত এজাহার – কালিহাতির কথা -২

ফুলবিবি হত্যা মামলা

দিগেন্দ্র চন্দ্র ব্যানার্জ্জী

 

 

যাদব চন্দ্র মুন্সী ছিলেন পাঁচ নম্বর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট। অত্যন্ত ভদ্র এং বিনয়ী। এন্ট্রান্স পাশ করে কলকাতায় পড়তে এসেছিলেন। পড়তে পড়তেই যার বাড়ি থেকে পড়াশুনা করতেন, তার চেষ্টায় কেন্দ্রীয় কোন দপ্তরে ভাল কাজ পান। চাকরী করে তার সঞ্চিত অর্থে গ্রাম পৌজানের পৈতৃক বাড়িটি পাকা করেন এবং বিস্তর জমিজমা কিনে সম্পত্তি বাড়িয়ে নেন। অবসর নিয়ে এখন দেশের বাড়িতে থাকেন এবং সম্পত্তি দেখাশোনা করেন। দুই ছেলে – সুনীল আর অনিল। দুটি ছেলেই বি,এ পাশ করে কলকাতা থেকে চাকরী করেন। দুটি ছেলেরই বিয়ে দিয়েছেন। নাতি নাতনি হয়েছে – জমজমাট সংসার। পৌজান ইউনিয়নের গ্রামগুলিতে মুসলমান অধিবাসী যদিও বেশী, কিন্তু হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে যাদববাবুকে সবাই ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন এবং গ্রামের লোকই ভোট দিয়ে তাঁকে পর পর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছেন। যাদববাবুও বেশ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গ্রামবাসীদের সুখসুবিধা দেখছেন।  

প্রত্যেক রবিবার থানায় সমস্ত ইউনিয়ন এবং পঞ্চায়েতের চৌকিদার দফাদারগণ সংবাদ আদানপ্রদানের জন্য একত্র হয়। একে থানার চৌকিদারি হাজিরা বা চৌকিদার প্যারেড বলা হয়। এই দিনটায় থানা উপস্থিত থাকা অফিসারকে খুব ব্যাস্ত থাকতে হয়। কত রকমের সংবাদ, কারও বউ পালিয়ে গেছে, গোয়াল থেকে গরু নেই, সম্পত্তি বেহাত হয়ে গেছে, চুরি-ডাকাতি, জমির স্বত্ব নিয়ে দাঙ্গা বা অন্য কারণে ভীষন শান্তিভঙ্গের সম্ভাবনা – কত যে ঝামেলা, সবই ডায়েরীভুক্ত করতে হবে এবং আবশ্যকীয় “একশন” নিতে হবে। নচেৎ প্রতিপদেই বিপদের আশংকা রয়েছে। ঘটনা হতে দেওয়ার চেয়ে ঘটনা সময়মত হস্তক্ষেপ করে নিবারণ করার কৃতিত্ব বেশী। তাই কোন কোন প্রেসিডেন্ট চৌকিদার বা দফাদার মারফত আরও খবর পাঠাতেন কোথায় কোন দাগী চোর ডাকাত বা সন্দিগ্ধ চরিত্রের লোকের বাড়ি বিদেশী লোক বা ভিন্ন থানার অপরিচিত লোক এসে লুকিয়ে আছে বা ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে তৈরি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে একশন নিলে কিন্তু বহু অপরাধ নিবারণ করা চলে। কিন্তু সবইতো চলে – থানায় এত লোক কোথায়? কত বকেয়া কাজ থাকে। ইন্সপেক্টর বা পুলিশ সাহেব হয়তো থানা পরিদর্শনে আসছেন – অপরাধ নিবারণ করতে পনের মাইল দূরে চলে যাবেন না থানা রেকর্ড ঠিক করবেন? কিন্তু সবই করতে হবে – এটাও করবেন, ওটাও করবেন। কোনদিক বাদ দিলে আর রক্ষা নেই। এ হেন হাজিরার দিন ছোটবাবুরাই থানার বড় সাহেব।   

আমার সহকর্মী সাহেব আলী আমার সিনিয়র – কিন্তু কোনও গরিমা ছিল না। সব কাজেই আমরা পরামর্শ করে করতাম। খুব বড় এলাকা বলে থানার বড় সাহেব প্রায়ই তদন্তকার্যে বাইরে থাকতেন। মধ্যম দারোগা রসিকবাবু ছিলেন সত্যিই রসিক লোক। যত রাজ্যের ছোটখাট তদন্তের কাগজপত্র নিয়ে আমার আর সাহেব আলীর পিঠ চাপড়িয়ে সাইকেলে বের হয়ে যেতেন, দুই তিন দিনের মধ্যে আর ফিরতেন না। এলাকায় তার অজ্ঞাতবাস চৌকিদারও বলতে পারত না। সব সময়ই ব্যস্ত, আনন্দে ভরপুর। থানায় ফিরেই দিলদরিয়া ভাব। বলতেন – “এই ব্যানার্জ্জী, এই সাহেব আলী কি করছ?” – এদিকে এস। দেখি এক হাড়ি মিষ্টি – চালাও। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম কি হেতু এত কাজের মধ্যেও এরূপ খুশী থাকতে পারে। তার বাসা ছিল আমার বাসার পাশে। দুঃখ হোত যখন তার স্ত্রী প্রতি রাত্রেই স্বামীর প্রতীক্ষায় জানালার ধারে বসে থাকতেন।

এ  হেন মধ্যমবাবুর আনন্দ ছিল বর্ষাকালেই বেশী। এলাকা জলে ডুবে যেত বলে প্রত্যেক তদন্তকারী অফিসারের নৌকার বন্দোবস্ত থাকে। সে নৌকাও খুব সুন্দর রঙিন ‘পটল বোট’। একটা লম্বা ধরণের পটলকে লম্বালম্বি কেটে নিলে যে আকার হয়, ঠিক সেই রকম। নৌকায় কাঠের কোঠা ঘর, বসবার যায়গা, বাথরুম ইত্যাদি সব রকম সুবিধা আছে। সন্ধ্যার কিছু আগেই হইহল্লা ব্যাপার – ‘এই গোবিন্দ (নৌকার প্রধান মাঝি) গড়গড়াটা উঠিয়েছিস? আর হারমোনিয়ামটা।’ আমি তার দিকে তাকিয়ে আছি দেখে কি মনে করে একটু হাসলেন। বললেন – “আসি, সাবধানে কাজ করবেন”। কি আশ্চর্য্য! দায়িত্ব নেই, ধরাছোঁয়ায় পায় না। উর্ধতন কর্মচারীদের খুশী রেখে কতরকম অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন!  

সরকারী কাজে পৌজান এলে আমি যাদববাবুর বাড়ি থাকতাম। তিনি আমাকে তার ছেলের মতন ভালবাসতেন। কথায় কথায় একদিন বললেন – “ছোটবাবু পারেন তো মধ্যমবাবুকে একটু বলবেন, বড় বদনাম হয়ে যাচ্ছে।” যাদববাবু  তো আর আমাদের ডিপার্টমেন্টের আভ্যন্তরীণ খবর জানেন না। সরল মনে বলেছেন। কিন্তু এ জন্যই শুধু মধ্যমবাবুকে এমন বিপদে পড়তে হয়েছিল যে চাকরী তো যেতই, জেলও হতে পারত। কোন উপায়ে বেঁচে গেল। আমরাও জেনে গেলাম এই ক্ষুদে জমিদারের সাড়ম্বরে এলাকা পরিদর্শনের পরিণতি কোথায়।

এক দিনের কথা। চৌকিদারি হাজিরা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। পৌজানের দফাদার তখনও যায় নি। কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম – “কি মুকুন্দ কিছু বলবে? যাদববাবু ভাল আছেন তো?”

মুকুন্দ বলল – “স্যার! মুন্সীবাবু বলেছেন, সময় করে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। উনি নিজেই আসতেন কিন্তু শরীর বিশেষ ভাল না বলে আসতে পারলেন না।”

আমি ভাবলাম, ‘কি এমন হতে পারে?’ আমি জিজ্ঞাসা করলাম – “কেন যেতে বলেছেন, তুমি কিছু জান?”

দফাদার যা বলল তাতে জানা গেল পৌজানের কাছে ইব্রাহিমপুর নামে একটা গ্রাম আছে। অধিবাসী প্রায় সবই মুসলমান। চাষবাস করে খায় কিন্তু বড়ই একজোট এবং উদ্ধত। আজ দু’তিন দিন হোল তমিজদ্দীন নামে একজন লোকের বউ নাকি নিরুদ্দেশ। থানায় বা প্রেসিডেন্টবাবুকে কিছুই জানায় নি। বউটির বাপের বাড়ি ইব্রাহিমপুর থেকে কিছু দূরে। সেখানেও যায় নি। লোকমুখে এখন শোনা  যাচ্ছে যে তমিজ্জদিন নাকি বউটাকে খুন করে গুম করে ফেলেছে। গ্রামের লোক এ ঘটনা জানে। সালিশ বসিয়ে তমিজ্জদীনের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায়ের চেষ্টায় আছে।  

দফাদারকে বললাম – “খুব ভাল সংবাদ এনেছ! বউটার বাপের বাড়ি কে আছে?”

দফাদার বলল – “স্যার যতদূর খোঁজ নিয়েছি এক ভাই আছে নাম কাশেম, খুবই নিরীহ গোবেচারা গোছের। সেও সালিশে এসেছিল। গ্রামের লোকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে থানায় জানাতে সাহস পায় নি। তাঁকে টাকাপয়সার লোভ দেখান হয়েছে এবং একরকম নজরবন্দী করে রাখা হয়েছে। সংবাদ পেয়ে ইব্রাহিমপুর যেয়ে আমি প্রকৃত ঘটনা জানতে চেষ্টা করছি। কিন্তু কেউ কিছু বলছে না। সব চুপচাপ।”

দফাদারের কাছ থেকে সংবাদ ডায়েরীতে লিখে নিলাম। বলে দিলাম – “যাদববাবুকে বলো আমি কাল সকালেই তাঁর ওখানে যাব। আমার যাওয়ার কথা যেন গ্রামে প্রকাশ না পায়”। দফাদার চলে গেল।

থানায় অন্য কোন অফিসার নেই। সাহেব আলীও বাইরে। মধ্যমবাবু যে এলাকার সঠিক কোথায় আছেন জানা যাচ্ছে না। গড় এলাকায় আড়াইপাড়া ক্যাম্প পরিদর্শন করতে যাচ্ছেন বলে ডায়েরীতে লিখে গেছেন। কিন্তু আমি এখন তার চালচলন বেশ বুঝে নিয়েছি। তাকে আড়াইপাড়া কেন, তার ধারে কাছে কোথাও পাওয়া যাবে না। তার গমনাগমন সেই রূপকথার রাক্ষসীর মতন। বন্দিনী রাজকন্যাকে রাক্ষসী যখন বলত – এই কাছেই যাচ্ছি তিন দিনেও তখন ফিরত না। আর দূরে যাচ্ছি বললে সেই দিনই এসে পড়ত। তা ছাড়া পৌজান তো আড়াইপাড়ার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে, পনের মাইল দূরে গড়ের এলাকার শেষ প্রান্তে।

কি সাঙ্ঘাতিক ঘটনা! বৌটাকে মেরে ফেলে গুম করা হয়েছে। একটা সংবাদ নেই থানায়! তায় আবার সম্পূর্ণরূপে গোপন করার প্রয়াস! যাদব মুন্সী দফাদারকে দিয়ে সংবাদ পাঠিয়ে যথাকর্ত্তব্য করেছেন। শাসন ব্যাবস্থা কি এই সব দুর্দান্ত প্রকৃতির লোক মানতে চায় না? দেখা যাক। বড় সাহেব সদর থেকে রাত্রে ফিরলে ভাল হবে। ভোর বেলা উঠে জানলাম বড় সাহেব এসে গেছেন। 

বড় সাহেবের বাসায় গিয়ে তাকে সব জানালাম। উনি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন আমার দিকে তাকিয়ে। তারপর বললেন – “কি করবেন?” আমি বললাম -“দু’জন কনস্টেবল নিয়ে এখনই সাদা পোশাকে চলে যাই। পৌজানের যাদব মুন্সীর বাড়ি ক্যাম্প করি। সেখান থেকে গোপনে তদন্ত শুরু করব। বন্দুকধারী দু’জন কনস্টেবল রাতের অন্ধকারে যাবে আমি খবর পাঠালে। আর একজন যাবে আমাদের পোষাক নিয়ে আজই রাত্রে। সিপাই নৈমদ্দীন আর আব্দুস সামাদ আমার সঙ্গে যাবে। সংবাদ সংগ্রহ করার পদ্ধতি আমি ঠিক করে নেব। বড়সাহেব অনুমোদন করলে আমরা তিনজন আধ ঘণ্টার মধ্যে রওনা হয়ে গেলাম।  

প্রায় দশটার মধ্যে পৌজান পৌঁছে গেলাম। যাদববাবু সর্দিজ্বরে সামান্য অসুস্থ। ভেতরে শুয়ে আছেন। সংবাদ পেয়ে আমাকে ডেকে পাঠালেন। কিছুক্ষণ আলাপের পর আমি বের হয়ে এলাম। দফাদার মুকুন্দ আর দু’জন চৌকিদার নূর মিঞা আর ফাগু সেখ বোর্ড ঘরে বসে আছে। দফাদার নতুন, কোন সংবাদ দিতে পারল না। কিন্তু জানলাম ফাগু সেখের মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ইব্রাহিমপুরে। তার বাড়ির লাগোয়া পশ্চিমে একটা ছোট মসজিদ আছে। সেখানকার ইমাম ভিনদেশী লোক বৃদ্ধ। জুম্মাবারে বিশেষ করে এবং অন্য দিনেও গ্রামের প্রায় সব লোক মসজিদে নমাজ পড়তে আসে। আমি আমার কর্মপদ্ধতি ঠিক করে নিলাম। সবাইকে ডেকে কথা বলার ভান করে শেষে ফাগু সেখকে ডেকে গোপনে রাত্রে যেয়ে ইমামকে ডেকে আনতে বললাম। ফাগু সাদা পোশাকে ইমামকে ডেকে আনল। আমার সাদা পোষাক। ইমাম জানতে পারল না – আমি কে। শুধু বললাম আমি সার্কেল অফিসারের লোক। বুড়ো নৈমদ্দীনকে দেখিয়ে বললাম – আমার এই লোক ওনার মসজিদে থাকবে কিছুদিন। দেখবে ওখানে একটা মাদ্রাসা খোলা যায় কি না। উপযুক্ত মনে করলে সরকার থেকে সাহায্যের আশা আছে। এমন কি ইমামেরও কিছু প্রাপ্য হতে পারে।

নৈমদ্দীন একখানা সাদা লুঙ্গী আর সাদা বড় পাঞ্জাবী পরা। কাঁধে রেখেছে একটা হলুদ রঙের বড় যুগী গামছা। মাথায় সাদা লেস বর্ডার দেওয়া টুপি। ইমামকে আস্লামালেকুম করে দাঁড়াল। নৈমদ্দীন কথার মাঝে  দুএকটি আরবি শব্দ উচ্চারণ করল। সার্কেল অফিসারদের এরূপ কাজের কথা ইমাম আরও শুনেছে। সরকারী সাহায্যের কথা শুনে ইমাম খুব খুশী। তাকে বললাম এ কথা গ্রামের অন্য কেউ যেন না জানে। এটা প্রথমে গোপন করতে হয় বলে গ্রামে যাতে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে ইমামকে সাবধান করে দিলাম। নৈমদ্দীন ভারিক্কি চালে ইমামের সঙ্গে রাত্রেই চলে গেল। ফাগু সেখের শরীর ভীষন অসুস্থ! সেও মেয়ের কাছে বিশ্রামের জন্য এল। এই ভাবে দুই চর গ্রামে ঢুকে পড়ল।      

নৈমদ্দীন পাঁচ ওয়ক্ত নমাজ পড়ে আর অবসর সময়ে কিতাব নিয়ে বসে। গ্রামের লোক তাকে দেখে মনে করল ইমামের লোক। ইমামকে সে কথা বলা ছিল। তা ছাড়া নৈমদ্দীনের খাওয়া দাওয়া খুব ভাল চলছে। ইমাম ভাগ পেয়ে খুব খুশী। কথায় কথায় ইমাম একদিন নৈমদ্দীনকে খুব দুঃখের সঙ্গে বলল – “কি যে হয়েছে আজকাল, লোক মরে গেলে গোরস্থানে কবরও দেয় না আর ইমামকেও ডাকে না”। নৈমদ্দীনও তো এই চায়। সেও ভীষণ দুঃখিত – মুসলমানের ইজ্জত আর থাকল না। এ রূপ তো হয় না। ইমাম কথায় কথায় বলল – এই তো সেদিন তমিজ্জদিনের বউ মরল কিন্তু গোরস্থানে কবর দিল না। কোথায় যে দিল তাও ইমামকে জানাল না। নৈমদ্দীনের কাজ অনেকটা এগোল। এ কথা জানা গেল যে তমিজদ্দিদের বউয়ের নিরুদ্দেশের কারণ হ’ল তমিজ্জদিন তার বউকে মেরে ফেলে কোথাও পুঁতে রেখেছে। কিন্তু সেই যায়গাটা কোথায় সেটা জানতে হবে।

এদিকে চৌকিদার ফাগু সেখ মসজিদে তার অসুস্থ শরীর নিয়েও রোজ নমাজ পড়তে আসে এবং ইমামের আশ্রিত নতুন লোকটিকে ও ইমামকে সেলাম জানায়। তারপর ইমাম এদিক সেদিক গেলেই নৈমদ্দিনের সঙ্গে সংবাদ আদানপ্রদান করে। ফাগু সেখ তার মেয়ের বাড়ির বাইরের ঘরে যায়গা নিয়েছে তার কাজের সুবিধার জন্য। একটু রাত হলে খাওয়া দাওয়া করে সে ঘুমের ভান করে পরে থাকে। গ্রামদেশে তাড়াতাড়ি সব শুয়ে পড়ে। তারপরে ফাগুসেখের অসুখ ভাল হয়ে যায়। সে সোজা পৌজান চলে আসে। দিনের সংবাদ আমাকে দিয়ে আর আমার উপদেশ নিয়ে সে ইব্রাহিমপুরে রাত্রেই ফিরে যায়। ভোরবেলা এবং সন্ধ্যায় ফাগু সেখ কোনও মতে মসজিদে নমাজ চালিয়ে যায়।   

মসজিদের কাছে একটা ছোট পুকুর আছে। এখানে মিঞাসাহেবরা উজু ও গোছল করে। দুপুর দিকে সাহেবরা যখন ক্ষেতে চাষ করতে যায় বা অন্য কাজে যায় নৈমদ্দিন তখন পুকুরে গোছল করতে যায়। সে সময়ে আশেপাশের বয়স্কা মেয়েছেলেরাও আসে। ঘনঘন আল্লার নাম করে নৈমদ্দীন ধীরে সুস্থে গোছল করে। এই ভাবে দুই তিন দিনের মধ্যে গ্রামের মুখরা মেয়েছেলে করিমন বেওয়ার সঙ্গে নৈমদ্দীন আলাপ জমিয়ে নিল। করিমন বেওয়া জানল নৈমদ্দিন মসজিদে থাকে, ইমামের লোক। নৈমদ্দিনের কথাবার্তায় কথার ফাঁকে ফাঁকে আল্লা নাম উচ্চারণে ও দুর্বোধ্য দুই একটা আরবী শব্দ শুনে করিমন তাকে একজন মোল্লা বলে ধরে নিল ও ভাব করতে চেষ্টা করল। নৈমদ্দীনের যা বয়স তাতে আরও গোটা দুই নিকা করা চলে। নৈমদ্দিন কিন্তু সুযোগ ছাড়ল না। তার তো খবরের দরকার লাশ কোথায় পুঁতেছে। তাই সুযোগ পেলেই করিমনের সাথে নৈমদ্দিনের নিভৃত আলাপ চলতে থাকে খুব সাবধানে। প্রকাশ পেলে নৈমদ্দিনের কবর আবার কোথায় হবে কে জানে!

এদিকে আব্দুস সামাদ ছেঁড়া কালো আলখাল্লা পরে, রঙবেরঙের পুঁতির মালা পরে একটি ধুনুচি হাতে নিয়ে শেষ রাতে বের হয়ে কাশেমের গ্রাম রসুলপুরে যায়। ফকির-দরবেশকে গ্রামে কেউ সন্দেহের চোখে দেখে না। কি হিন্দু, কি মুসলমান কেউ এদের শুধু হাতে ফিরিয়ে দেয় না। পয়সা বা চাল দেয় আর দোয়া মাগে। এ দিক সেদিক দু’চার বাড়ি ঘুরে সামাদ কাশেমের বাড়ি এল। কাশেমের মানসিক অবস্থা ভাল না। বাড়িতে চুপচাপ বসে আছে এমন সময়ে সামাদ আঙ্গিনায় এসে ‘মুশকিল আশা আ আ আ ন’ বলে দাঁড়াল। কাশেমকে দেখে বলল – “আয় বা’জান চুপচাপ যে, কোন বিপদ হয় নি তো?” কাশেম প্রথমটা কেমন আঁতকে উঠল। তারপর ফকিরকে বসতে দিল। ফকিরের সঙ্গে আলাপে ও তার উদাস কথাবার্তায় কাশেমের মনে অনেকটা শান্তি এল। বোনটাকে মেরে ফেলল। সালিশে কিছু টাকা দেবে কথা ছিল – তাও দিল না, থানায়ও খবর দেওয়া হোল না। এই সব ভেবে ভেবে তার মনে একটুও শান্তি ছিল না। ফকিরকে সে আবার আসতে বলে দিল। ফকিরও ক্রমান্বয়ে দুইতিন দিন কাশেমের সঙ্গে দেখা করে, নানা রকম কথাবার্তা বলে কাশেমের মনের উপর প্রভাব বিস্তার করল। ফকিরের উপর কাশেমের এত বিশ্বাস হোল যে একদিন কাশেম তার বোনাই যে তার বোনকে মেরে ফেলেছে সে কথা বলে এখন কি ভাবে এই বিপদ থেকে রেহাই পাওয়া যায় তার পরামর্শ চাইল ও আল্লাতালার দোয়া চাইল। ফকির গম্ভীর হয়ে কতক্ষণ চোখ বুজে থেকে বলল – “থানায় জানিয়েছিস?” কাশেম বলল – “ইব্রাহিমপুরের মোড়লরা সব ঘটনা গুম কইরা দিছে – থানায় জানাইতে দেয় নাই।”  

ফকির বলে উঠল – “আত্মার শান্তি হয় নাই। তোর বাড়ির আশে পাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তোর ভীষণ বিপদ হতে পারে। কবরে মোম দিতে হবে।” কাশেম ভয় পেয়ে বলে উঠল – “কবর কোথায়? বাড়ির পিছন দিকে জঙ্গলে পুঁতে রেখেছে।” এই বলে ফকিরের পায়ে ধরে দোয়া চাইল। ফকির কিছুক্ষণ আবার চোখ বুজে রইল। তারপর বলে উঠল -“ভয় নাই। পীরের দরগায় আজ থেকে সাতদিন মানত করে সিন্নি দিব। তোর কোন খরচা লাগবেনা। কেউ জানবে না। তোরও কাজ হবে। সব মুশকিল আশান হবে”। এই বলে চলে এল। দিন থাকতে তো ফকির যাদব মুন্সীর বাড়ি ঢুকতে পারবে না। তাই সবাই দেখল – মুন্সীবাড়ির অনতিদূরে এক ফকির চুপচাপ বসে আছে। আর মুশকিল আশান বলে উঠছে মাঝে মাঝে।   

রাত্রি হোলে ফকির সামাদ হয়ে গেল। তারপর আমাকে সব সংবাদ বলে হাসতে লাগল। আমি সামাদকে বললাম -“সামাদ! তোমাকে আরও একটা কাজ করতে হবে। সেটা আরও একটু কঠিন। ফাগু চৌকিদার একটু পরেই আসছে। তার থেকে তোমাকে জানতে হবে তমিজ্জদিনের বাড়ির সঠিক অবস্থান। সত্যিই কোন জঙ্গল আছে কি না বাড়ির আশে পাশে। থাকলে সেখানে সন্দেহজনক কিছু বোঝা যায় কি না রাস্তার দিক থেকে বা কোন সুবিধাজনক পরিস্থিতি থেকে। তারপর তোমার তিন দিন ছুটি।” তিন দিন ছুটির কথায় সামাদ খুব খুশী। রাত প্রায় এগারোটার সময়ে ফাগু এল। হেসেই কুটিপাটি। নৈমদ্দিন আর করিমন বেওয়ার নিকা নাকি প্রায় ঠিক। করিমন থেকে নৈমদ্দিন যা জেনেছে তা’ সামাদের সংবাদের সঙ্গে মিলে গেল। এখন কেবল যায়গাটা দেখা। সামাদ চৌকিদার ফাগুর কাছ থেকে তমিজ্জদিনের বাড়ির অবস্থান জেনে নিল। 

পরদিন দেখা গেল ইব্রাহিমপুরের রাস্তায় এক ফকির হন হন করে চলেছে। হাতে তার ধুনুচি। মাঝে মাঝে মুশকিল আশান  বলে উঠছে। কোন দিকে তাকায় না। শেষে পাড়ার ভিতর ঢুকে পড়ল। এ বাড়ি সে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে চোখ বুজে দোয়া মাগে। তারপর চলে যায়। তমিজ্জদিনের বাড়ি দেখে বুঝে নিল। সেই জঙ্গল যায়গাটাও দেখল। তখন প্রায় দুপুর বেলা। পুরুষ লোক খুবই কম। কেউ গেছে আবাদে। কেউ মসজিদে দুপুরের নমাজ পড়তে। তবু নিশ্চিত হবার জন্য একটি ছোট ছেলেকে জিজ্ঞাসা করে জেনে নিল। ফকিরের অবাধ গতি। জঙ্গলের ভেতর সরু রাস্তার মত দেখে সেখান দিয়েই ছুটল। সন্ধানী দৃষ্টি – একটি সাত আট বছরের ছেলে জঙ্গলে দাঁড়িয়ে। কাছেই কিছু জঙ্গল কাটা ও মাটি দিয়ে ঢাকা। ফকিরকে দেখে ছেলেটি ছুটে বাড়ির ভেতর ঢুকল। ফকির এসে দাঁড়াল বাড়ির সামনে – মুশকিল আশান বলে। ছেলেটি বেড়িয়ে এসে বলল – “কেউ নেই। আম্মাজান মরে গেছে” – বলে জঙ্গলের দিকে তাকাল। ফকিরের বুঝতে বাকি থাকল না। হন হন করে ছুটল। এল মসজিদে নমাজ পড়তে। নৈমদ্দিনের সাথে চোখাচোখি হয়ে গেল। বলে উঠল – “সব আশান ভাই সব আশান”। নৈমদ্দিন বুঝে নিল। তিন লাফে ফকির মসজিদ পেরিয়ে রাস্তা ধরল।    

বিকালের দিকে ইমামের সঙ্গে নৈমদ্দিনের কথা হচ্ছে। ইমামের বড় দুঃখ, মুসলমানি কানুন কেউ মানছে না। নৈমদ্দিনের কাজ হয়ে গেছে। করিমনের থেকে কথায় কথায় সব জেনে নিয়েছে। ইমামের কথায় সে প্রশ্ন করে বসল – “কি মানছে না?” এই কয় দিনে নৈমদ্দিনের সঙ্গে ইমামের বেশ ভাব হয়ে গেছে। ইমাম তখন চুপি চুপি তমিজ্জদিনের ব্যাপারটা বলে দিল। তমিজ্জদিন বলল – “এখানে মাদ্রাসার খুবই দরকার। এরা কোরান হাদিস মানে না। সব কাফের হয়ে গেছে।” পরদিন আজানের নমাজের সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়ে ইমামের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে দাড়িতে হাত বুলাতে বুলাতে নৈমদ্দিন সার্কেল অফিসে যাই বলে চলে গেল। ফাগু সেখের অসুখ সারতে আরও দিন কতক লাগবে কারণ তাকে যে কবরের দিকে নজর রাখতে হবে। ইমাম মনের আনন্দে মাদ্রাসার স্বপ্ন দেখছে। গ্রামবাসীকে তাক লাগিয়ে দেবে। তারা তাকে না মানলেও সে যে গোপনে তাদের জন্য কত উপকার করছে তা বুঝিয়ে দেবে। তাই সে সবই গোপন রাখল।

চার পাঁচ দিনের মধ্যে আবশ্যকীয় সংবাদ সংগ্রহ করা হোল। আইন অনুযায়ী মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট থেকে আনান হ’ল লাশ কবর থেকে উঠিয়ে আনার অনুমতি। থানা থেকে এসে গেল সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী। দেড় দিনের মধ্যে সমস্ত বন্দোবস্ত শেষ করতে হোল। শেষ রাত্রে দলবল নিয়ে ঘেরাও করা হোল তমিজ্জদিনের আর সংশ্লিষ্ট চার পাঁচ জন মোড়লের বাড়ি। উঠান হোল মাটিতে পুঁতে রাখা তমিজ্জদিনের বউ ফুল বিবির মৃত দেহ। পচন শুরু হয়ে গেছে – দেহ ফুলে ঢোল। তবে যা সাধারণতঃ হয়ে থাকে তা এ ক্ষেত্রে হয় নি – হয়তো মাটির নিচে ছিল বলে। মৃতদেহে ধারাল অস্ত্রের দাগ দেখা গেল তিনটে। একটা গলায় – বেশ বড় মনে হোল। আর দুটো দুহাতের তালুতে। সেগুলি গলার আঘাতের তুলনায় ছোট। ‘সুরতহাল রিপোর্ট’ তৈরি করে নিলাম। তারপর আবশ্যকীয় কাগজপত্রাদিসহ মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মহকুমা পরীক্ষাগারে পাঠান হোল।       

তারপর তমিজ্জদিনের ঘরে তল্লাসি চালান হোল। কোথাও অপরাধমূলক কিছু রেখেছে বলেতো মনে হচ্ছে না। হঠাৎ ঘরের মেঝের একটা কোনার দিকে এমনভাবে নিকানো হয়েছে যে মেঝের অন্যান্য যায়গা থেকে বেশ পৃথক। ভাল করে পরীক্ষা করলে এরূপ বৈষম্য নজরে পড়ে। তাড়াহুড়ো করলে নজর এড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। যায়গাটা শাবল দিয়ে খোঁড়া হোল। কিছুটা মাটি সরাতেই বেরিয়ে এল রক্তাক্ত কাপড়চোপড়। অনেক তল্লাশি করে কিন্তু কোন অস্ত্র পাওয়া গেল না।  মৃতদেহ এবং রক্তাক্ত কাপড়চোপড় দেখে তমিজ্জদিনের মুখ শুকিয়ে উঠল। ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদে তমিজ্জদিন প্রথমে কিছুই বলতে চাইল না। তল্লাশি শেষ করে এবার তমিজ্জদিনকে নিয়ে চলল অবিরত জিজ্ঞাসাবাদ। কাটারি বা অন্য কোন ধারাল অস্ত্র যা দ্বারা খুন করা হয়েছে তা’ যে বের করতেই হবে। জিজ্ঞাসাবাদের যতরকম পদ্ধতি আমার জানা ছিল সবই প্রয়োগ করা হোল। ঘন্টাখানেকের মধ্যেই তমিজ্জদিন ভেঙে পড়ল। স্বীকারোক্তিতে আনুপূর্ব্বিক সমস্ত ঘটনা বলে গেল। জঙ্গলের মধ্য থেকে বের করল কাটারি। রক্তের দাগ তাতে শুকিয়ে আছে। বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য নেওয়া হোল কাটারি ও রক্তমাখা কাপড়চোপড়। কত সামান্য কারণে এরা এরূপ নৃশংস হত্যাকাণ্ড করতে পারে তা শুনে আমরা হতবাক হয়ে গেলাম।   

তমিজ্জদিনের জমি কম। তাই তাকে জন খাটতে হয়। ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যারাত্রে বউ ফুলবিবির সাথে তমিজ্জদিনের খুব ঝগড়া হয়। যে কটা চাল ঘরে ছিল তাই সিদ্ধ করে রেখেছিল। ভাত কম দেখে তমিজ্জদিন রাগ করে ভাত ফেলে উঠে যায়। তারপর ফুলবিবিকে মারধোর করে। ফুলবিবি সকালেই চালের কথা বলেছিল। কিন্তু তমিজ্জদিন সে কথা স্বীকার করে নি। হয়তো অন্যমনস্ক ছিল বলে শুনতে পায় নি এমন হতে পারে। যা হোক ঘটনার দিন সকালে তমিজ্জদিন না খেয়েই সকালে কাটারী হাতে বেরিয়ে যায়। যাবার সময় বলে যায় যে ফুলবিবি যেন হাফেজ মোড়লের বাড়ি থেকে চাল নিয়ে আসে সে বলে যাবে। কিন্তু ফুলবিবি যায় না। রাগ করে সারাদিন বসে থাকে।

সন্ধ্যায় তমিজ্জদিন ঘরে ফিরে এসে কাটারি রেখে তামাক খায়। ফুলবিবি বারান্দার এক কোনে চুপচাপ বসে আছে। সারাদিন কিছু না খাওয়ায় তার শরীরে এসেছে ক্লান্তি ও অবসাদ। তমিজ্জদিন তামাক খায় ও তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। সাত আট বছরের ছেলেটা ঘরের ভেতরে ঘুমাচ্ছে। এক ছিলিম তামাক শেষ করে তমিজ্জদিন হাতমুখ ধুতে গেল। এসে দেখল ফুলবিবি তেমনই বসে আছে। তমিজ্জদিনের মেজাজ গরম হয়ে গেল। সারাদিন খেটেখুটে এসেছে। এ কি লেহাজ তরিকৎ।

এই কথা বলতে বলতে তমিজ্জদিন হঠাৎ কেঁদে ফেলল। তারপর বলল –   

“কয়েন সায়েব! এর পর আর মেজাজ ঠিক থাকে। ভাত দিতে কইলাম তাও দিলে না। উইঠা ঘরের মধ্যে চইলা গেল। তখনই আমি জিগাইলাম – ‘চাউল আনছিলি’। কইল – ‘না’। আমার যে কি অইয়া গেল।  দা’টা উঠাইয়া লইলাম। তারপর ঘরের মধ্যে যাইয়া দা দিয়া কোপ দিতে লাগলাম। ফুলবিবি দুই হাত দিয়া ফিরাইল। কিন্তু আমি থামলাম না। দায়ের কোপ হাতে লাগায় শুইয়া পড়ল। আমি গলায় কোপ দিলাম। কাটারী খুব ধার লগে লগে গলায় বইসা গেল। কইয়া উঠলাম – ‘আজ তরে শেষ কইরা দিমু’। ফুলবিবি দুই তিন চীৎকারে শেষ। পোলাটা চীৎকারে জাইগা উঠল। কাইন্দা কাইন্দা কইল – “বা’জান আম্মাজানরে মাইরো না। সারাদিন আমরা কিছু খাই নাই”। আমি তখন পাগল অইয়া গেছি। চীৎকার শুইনা পড়শিরা ছুইটা আইল। হানিফ মিঞা, ঝুইনার বাপ, আব্দুল, মতি সেখ, করিমন বেওয়া আরও অনেকে, খেয়াল রাখি নাই। আমি সক্কলকার পা ধইরা কাইন্দতে লাগলাম আর কইলাম – ‘কি সর্বনাশ করলাম! আমারে বাঁচাও।’

সকলের পরামর্শে রক্ত সাফা করলাম। মাটি খুইড়া রক্তের কাপড় লুকাইলাম। কাটারি জঙ্গলে লুকাইয়া রাখলাম। ফুলবিবিরে জঙ্গলে পুইতা দিলাম। রাইত বইলা কাজ শেষ করতে অসুবিধা অইল না। আমি আমার ভিটা জমি বেইচা দিয়া মোড়লদের টাকা দিমু কইলাম। তারপর কইলাম – ‘কাশেম আইলে কি কইমু?’ মোড়লরা কইল – ‘সে আমরা দেখমু’। তারপর সব চুপচাপ ছিল। যারা এই সব জানে না তাগো কইলাম যে ফুলবিবি পলাইয়া গেছে। মোড়লরা কাশেমকে খবর দিয়া আনাইয়া বুঝাইল ও টাকা দিব কইল। কইল পুলিশরে জানাইলে কাইট্যা ফেলামু। কাশেম সুজা সরল মানু। ভয় পাইয়া গেল।”  

তমিজ্জদিন, হানিফ মিঞা ও আরও যারা এ ব্যাপারে সাথে ছিল সকলকে গ্রেপ্তার করা হোল। বড় সাহেব মামলা হাতে নিলেন। তদন্ত শেষ করে তমিজ্জদিন ও আরও আটদশ জনকে কোর্টে বিচারের জন্য চালান দেওয়া হোল। এক বছরের মধ্যে বিচার শেষ হয়ে গেল। দায়রার বিচারে জজ সাহেব তমিজ্জদিনকে দিলেন ফাঁসির হুকুম। ফুল বিবির লাশ ও অন্যান্য প্রমাণাদি গোপন করার জন্য যারা তমিজ্জদিনকে সাহায্য করেছিল তারা পেল বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড।  

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

w

Connecting to %s