অসমাপ্ত এজাহার – ভুটো

দিগেন্দ্র চন্দ্র ব্যানার্জ্জী

 

ভুটিয়া ঘোড়া (ইন্টারনেট ছবি) 

মোহনগঞ্জ থানায় মোয়াজ্জম হোসেনের একটি বড় ঘোড়া ছিল। এলাকার যে সমস্ত দিকে জেলা বোর্ডের ভাল রাস্তা আছে, সেদিকটায় যেতে হলে এটাকেই নিয়ে যাওয়া হোত। জলা যায়গা বলে আর অন্য সময়ে বেশীর ভাগ এলাকায় ভাল রাস্তা ছিল না। বর্ষার সময়ে সব যায়গাতেই নৌকায় যাওয়া হোত। আর অন্য সময়ে ক্ষেতের আল, বিলের ধার (কান্দা), ইউনিয়ন বোর্ডের সরু রাস্তা এই ছিল যাতায়াতের পথ। সরু পথের প্রায় যায়গাই ভাঙা আর সেখানে বারোমাসই জল থাকে। তাই এই ভাঙা যায়গার উপর দিয়ে মাঝে মাঝে বাঁশের সাঁকো করে দেয় বোর্ড থেকে। বড় ঘোড়া এই সব যায়গায় নিয়ে যাওয়া খুবই অসুবিধা। তাই তেথুলিয়া কাছারি থেকে বিধুবাবু আমাদের ব্যবহারের জন্য একটি সাদা ভুটিয়া ঘোড়া দিয়েছিলেন। এটা নিয়ে চলতে খুব আরাম বোধ হোত। কিছু কিছু রাস্তাঘাটও ওর বেশ জানা ছিল। আমরা ওকে আদর করে ডাকতাম – “ভুটো”। টুকটুক করে চলত। কোন পথই তার অগম্য ছিল না। আমাকে খুব ভালবাসত। ইউনিফর্ম পরে ওর কাছে এসে দাঁড়ালেই ও বুঝে নিত বাইরে যেতে হবে। ঘাড়, গলা চেটে দিত, মুখামৃত ছড়িয়ে দিত পোশাকের উপর। ভুটোকে কিন্তু কোনদিনই আমি ভুলতে পারব না। ভালবাসার মর্য্যাদা ও রক্ষা করেছিল আমাকে এক ভীষণ বিপদের মুখ থেকে রক্ষা করে। সেই কথাই বলছি।

একটানা দশ বছর পূর্ব্ববঙ্গের বিভিন্ন থানায় কাজ করেছি। সরকারী কর্ত্তব্য কার্য সম্পাদনে শিথিলতা এলেই বিবেকে বাঁধত। তাই কারও কোন উপদেশ নির্দ্দেশ মানা যেন স্বভাববিরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এই স্বভাব রয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গে এসেও। সবাই বলত একগুঁয়ে। এই একগুঁয়েমির জন্য কতবার যে কত বিপদের সম্মুখীন হয়েছিটার ঠিক নেই। নাজিরনগরের দাঙ্গা থেকেতো অনায়াসেই সরে আসতে পারতাম। উপদেশতো পেয়েছিলাম স্থানীয় বন্ধুবান্ধবদের কাছ থেকে। কুলীয়ার চরের নৈশ অভিযানে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে ঝরের মধ্যে পড়ে আত্মরক্ষার প্রচেষ্টাওতো অনায়াসে এড়িয়ে যাওয়া যেত। পরবর্ত্তীকালে এরূপ ঘটনা হয়েছে অনেক তারই কয়েকটি লিখে রাখলাম।

ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার তখন এইচ ই সাবাইন – আই বি থেকে বদলি হয়ে ময়মনসিংহ জেলার চার্জ নিয়েছেন। সিনিয়র চাকুরীতে। কলকাতা, হাওড়া ও চব্বিশ পরগণা জেলাতেই বেশী কাজ করেছেন। মফঃস্বল জেলায় এসে ঠিক মন বসাতে পারছেন না। প্রায়ই থানা পরিদর্শনে বেরুচ্ছেন। হঠাৎ একদিন কাগজ পেয়ে গেলাম। সাহেব মোহনগঞ্জ থানা পরিদর্শনে আসছেন। আমরাতো অবাক। ব্যাপার কি? সাধারণত ইস্ট ডিভিশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারেরইতো আসার কথা। যা হোক ওসব ভেবে কোন লাভ নেই। যথাসাধ্য রেকর্ডপত্র ঠিক করা গেল। হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি এসে গেল। অবশ্য এতে আবগারি দোকানের মালিক শ্যামবাবুর কৃতিত্ব বেশী। অভিজ্ঞ লোক। প্রস্তাব করলেন পরিদর্শনের তৃতীয় দিন মোহনগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এক সভায় সাহেবের সাথে মিলিত হবেন তাঁকে অভিনন্দন জানাবার জন্য। আর চতুর্থ দিন তেথুলিয়া বিলে নিয়ে যাওয়া হবে পাখী শিকারে। ঠিক হোল আমি তেথুলিয়া কাছারি গিয়ে বিধুবাবুর সাথে আলাপ করে সব বন্দোবস্ত করে আসব। সেই অনুসারে সাহেব আসার দিন দুই আগে বেলা প্রায় এগারটার সময়ে ভুটোকে নিয়ে রওনা হয়ে গেলাম। বিকাল প্রায় চারটার সময়ে তেথুলিয়া কাছারি পৌঁছে গেলাম। বিধুবাবু কাছারিতেই ছিলেন। উনি শুনে খুব খুশী হলেন এবং শিকারের দিন সব বন্দোবস্ত করে রাখবেন বললেন।

কথায় কথায় সন্ধ্যা হয়ে গেল। আমাকে যে ঐ দিন যত রাতই হোক থানায় ফিরতে হবে – সে কথা ভুলে গেছিলাম। আমি উঠে দাঁড়াতেই বিধুবাবু রেগে বললেন – “তুমি যদি যাবেই তবে আরও আগে রওনা হলে না কেন? কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার নেমে আসবে এই কুখ্যাত বিলে। প্রায় চার মাইল পথ যেতে হবে বিলের ধার ধরে। স্থানে স্থানে একাধিক পথ রয়েছে। ভুল করলে রাত্রে থানায় ফিরতে পারবে কি না সন্দেহ। বিধুবাবুর স্ত্রীও শুনে নিষেধ করলেন। বললেন -“কাল খুব ভোরে রওনা হলেই হবে। সামান্য সময় দেরী হলে আর ভারতবর্ষ থেকে ইংরেজ রাজত্ব চলে যাবে না। ওদের যখন যাবার সময় হবে তখন পুলিশ কেন মিলিটারিও ধরে রাখতে পারবে না”।

আমি হেসে বললাম – “তা নয়। জানেন তো পুলিশ সাহেব নতুন এসেছেন জেলায়, কি রকম হবে জানি না। থানায় অনেক কাজ করা বাকি আছে। সুরেনদা কিরূপ খেয়ালি লোক। মোয়াজ্জমের অসুবিধা হয় আমি চাই না। তা ছাড়া আমার নিজেরও ভবিষ্যৎ আছে”। আমার সেই একগুঁয়েমি স্বভাবটা মাথা চাড়া দিয়ে উঠল। “থানায় যখন বলে এসেছি তখন যাবই”।

বিধুবাবু আর আপত্তি করলেন না। খুব তাড়াতাড়ি করে কিছু খাইয়ে দিলেন। এখন সমস্যা হোল ভুটোকে নিয়ে। ভুটো এই কাছারির একজন সভ্য। এখানে তার এক সাথী আছে। তার সঙ্গে অনেকদিন পর দেখা হওয়ায়, তাদের নিভৃত আলাপ তখনও শেষ হয় নি। তা ছাড়া ও ধরে নিয়েছিল এখানে রাত্রে থাকব। তাই যেতে একটু আপত্তি। কাছে এসে ঘাড়, মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম – “চল থানায় যাব”। ভুটোর মেজাজ গরম হয়ে গেল। আমার মুখে চোখে ওর মুখামৃত ছড়িয়ে দিয়ে ঘোরতর আপত্তি প্রকাশ করল। আমি ওর কানের কাছে মুখ এনে আদর করে বললাম – “চল না – থানায় অনেক কাজ আছে।”

এই বলে উঠে বসলাম। বিধুবাবু একটা লোক দিয়ে কিছুদূর বিলের পথে এগিয়ে দিল। কিছুটা চলার পর বিলে ফিকে জ্যোৎস্নার মত দেখা গেল। গ্রাম দেশ, তাও আবার নির্জ্জন বিলের যায়গা। তেথুলিয়ার হাটের দিন তবু কিছু লোক চলে এবং আসে পাশের রাস্তা ধরে নিজ নিজ গ্রামে ঢুকে পড়ে। আজ কিন্তু তাও দেখছি না। না – ঐ তো দূরে আলো দেখা যাচ্ছে। নিশ্চয়ই লোক চলছে। আমি ভুটোর গতিবেগ বাড়িয়ে দিলাম। আলোটা মাঝে মাঝে নিভে যাচ্ছে। হতে পারে কোন ঝোপঝাড়ের আড়াল হেতু ওরূপ হচ্ছে। একটা যায়গায় এসে দু’তিনটি রাস্তার সংযোগ স্থলে এসে পড়লাম। কই দিনের বেলা তো এই যায়গাটা দেখি নি। ভুটো আপনা থেকে দাঁড়িয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে আবার সেই আলো। অনোন্যপায় হয়ে আমি সেই আলোর দিকেই ভুটোর গতি নির্দ্দেশ করে দিলাম। ভূতও কিন্তু মুখামৃত ছড়িয়ে আপত্তি জানাল। আমি মস্ত এক ভুল করে বসলাম। ওকে বুঝতে না পেরে জোড় করে ওকে সেই আলোর দিকেই চালিয়ে দিলাম।

আধ ঘণ্টা চলার পর এখন সেই আলো কোথায় যেন অদৃশ্য হয়ে গেল। একটা বিষয় তখন আমার মনে হোল এই যে এত জোড়ে ঘোড়া চালিয়ে এলাম আলোতো সেই সমান দূরে থেকে যাচ্ছিল। এখন আর দেখছি না কেন? আর পথই বা পাচ্ছি না কেন? তা হোলে কি আলেয়ার আলো? রাত্রে বিলে তো এরূপ হামেশাই দেখা যায়। পথচারী একে দেখেই চলতে চলতে শেষে পথ হারিয়ে বিলের জলে নেমে পরে আর উঠতে পারে না। পরে আতঙ্কে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরূপ একটি অপঘাত মৃত্যুর তদন্তও আমি করেছি । আমি ভুটোকে থামিয়ে দিলাম। পোশাক পরা, বিশ্বস্ত ঘোড়ার উপর – সঙ্গে রয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র। মনের জোড় হারালে এই বিলে সারা রাত্রেও আর পথ পাব না। আবার আলো। এবার আর ভুল নয়। বুঝে নিয়েছি। ভুটোর সমস্ত শরীর ঘেমে গিয়েছে। আমার ইউনিফর্ম এই শীতেও ভিজে গিয়েছে। বলগা টেনে ঘুরিয়ে দিলাম ভুটোকে। ও বুঝতে পারল – চিনে চলে এল সেই রাস্তার সংযোগস্থলে। তারপর আমি আর ওকে কোন নির্দেশ না দিয়ে ইচ্ছামত চলতে দিলাম। কিছুক্ষণ এদিক ওদিক দেখে নিয়ে আপন ইচ্ছায় চলতে লাগল। কতক্ষণ চলেছে জানি না। কারণ তখন আমার মাঝে মাঝেই তন্দ্রায় চোখ বুজে আসছিল। রেকাবের ভিতর পা ঢুকিয়ে দিয়ে, বলগা শক্ত করে হাতে বেঁধে দিলাম। পরে গেলে যেন ভুটো বুঝতে পারে। অনেক্ষণ চলার পর ভুটো শব্দ করে দাঁড়িয়ে গেল। চেয়ে দেখি একটি বড় বাড়ি। একজন বৃদ্ধ মুসলমান হ্যারিকেন হাতে করে বাইরের দিকে আসছে। আমাকে পোশাক পরা ঘোড়ার উপর দেখে হকচকিয়ে গেল। বললাম – “মিঞা সাহেব এটা কোন গ্রাম”?

বলল -“অতিথপুর – বারহাটা থানা”।

“মোহনগঞ্জ থানা কতদূর?”

“ক্রোশ ছয়েক হবে”। সামনেই অতিথপুর রেলস্টেশনের সিগন্যাল লাইট দেখা গেল। বললাম – “আমি মোহনগঞ্জ থানার ছোট দারোগা। বাংলা ঘর আছে?  রাত্রে থাকব”।

এই বলে ঘোড়া থেকে নেমে পরলাম। ভুটো চুপচাপ দাঁড়িয়ে চোখ বুজল।  মিঞা সাহেব সেলাম জানিয়ে আমাকে বাংলা ঘরে নিয়ে এল। তারপর একটি চাদর নিয়ে এসে তক্তপোষের ওপর পেতে দিল। বলল – “রাত্রি আর বিশেষ নেই। আমি আজানের নমাজের জন্য মসজিদে যাই”। এই বলে সে চলে গেল। আমি চোখ বুজে একটু ঘুমোতে চেষ্টা করলাম। ট্রেনের শব্দ শুনে বুঝলাম ভোর চারটার ট্রেন মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে এসে অতিথপুর পেরিয়ে গেল। ট্রেনের মত আমার মনের মধ্যে আজ রাতের অভিযানের সম্ভব অসম্ভব চিন্তারাশি হু হু করে প্রবেশ করে আবার ঐ ট্রেনের মতই বেরিয়ে যেতে লাগল। কাছেই মসজিদ থেকে আজানের সুউচ্চ রব ভেসে আসছিল। এই বাড়িরই মালিক মিঞা সাহেব তার প্রাণের আবেগ তারস্বরে খোদাতাল্লার দরবারে পৌঁছে দিচ্ছে। সেই স্বর অনুসরণ করে আমার মনও যেন চলল কোন এক অজানা লোকে। বিধুবাবু ও তার স্ত্রী এসে গেছেন। শাসনের ভঙ্গীতে বলছেন – “কত নিষেধ করলাম, শুনলে না। এখন বুঝলেতো বয়স্কদের কথা মানতে হয়। সেই থানায়তো যেতে পারলে না। কত কষ্ট পেলে। তবে ভগবানের কৃপায় এ যাত্রা রক্ষা পেয়ে গেছ। তুমি যে অশরীরী আত্মার পাল্লায় পড়েছিলে, তোমার উপর যাঁর অনুগ্রহ আছে সে যে সেই আত্মার চেয়ে কত শক্তিশালী তার প্রমাণ হয়ে গেল”।

বিধুবাবুর স্ত্রী আমার শিয়রের কাছে বসেছিলেন। বললেন -“এই একগুঁয়েমির ফল এই নিয়ে কতবার হোল?”

বললাম- “এই তিনবার, তিনবারই যমরাজার প্রাসাদের সিংহদ্বারে আমার অদ্ভুত পোশাক দেখে ঢুকতে দেয় নি”।

“তোমাকে ছেড়ে দিয়ে আমরা কেউ ঘুমোতে পারি নি, বুঝলে তাই গরুর গাড়ী করে পিছন পিছন ছুটে এসেছি। ভুটো তোমাকে নিয়ে সারা রাত ঘুরেছে। ও যে কিছুতেই রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না। আমরা তোমাকে ধরতে না পারলেও আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষা তোমাকে স্পর্শ করেছিল”। বিধুবাবু ও তার স্ত্রী চলে গেলেন। আমি তাদের ভালবাসার গভীরতা অনুভব করছি।

ধ্যানমগ্ন রাত্রি, ফিকে জ্যোৎস্নায় তার অঙ্গের শোভা বিকীর্ণ হচ্ছে। সম্মুখে বিলের জলরাশি। তাতে বহুযুগের পদ্ম ও অন্যান্য জলজ লতা গাছ। প্রস্ফুটিত ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছে ধ্যান শেষ হলেই অর্ঘ রচনা করবে। কোথাও কোন সাড়া শব্দ নেই। আলেয়ার আলোর আরতি আমাকে পথ দেখাচ্ছে। পাছে কেউ ধ্যান ভঙ্গ করে তাই আমি অশ্বপৃষ্ঠে সমস্ত বিল পরিক্রমা করছি। হঠাৎ আজানের দীর্ঘ নির্ঘোষে জানিয়ে দিল ধ্যান শেষ। এই বার ছুটি।

বাইরে কাদের কথায় ঘুম ভেঙ্গে গেল। দেখি দীর্ঘ পক্ব শ্মশ্রু বাড়ির মালিক আমার দিকে তাকিয়ে দেখছেন। ঘুমের রেশ তখনও কাটে নি। আমার যেন মনে হোল এই দরবেশই আমাকে সেই অশরীরী আত্মার প্রকোপ থেকে মুক্ত করে তাঁর বাড়ি এনে আশ্রয় দিয়েছেন। দুইজন চৌকিদার এসে গেছে। একজন ভুটোকে মাঠে নিয়ে যেয়ে কচি ঘাস খাওয়াচ্ছে। আর একজন হাত মুখ ধোবার জল নিয়ে এল। চৌকিদারের থেকে জানলাম বাড়ির মালিকের নাম আফসারুদ্দিন হাজী। দুবার হজ করেছেন। তবু নিজে চাষাবাদে এখনও ছেলেদের সাহায্য করেন। বড় গৃহস্থ। এরূপ সৎলোক এ তল্লাটে নেই। মুখ ধোওয়া শেষ হয়েছে, দেখি হাজী একটি ছেলেকে সঙ্গে করে তিন চারটি পাত্র করে দুধ, মুড়ি, গুড় ইত্যাদি নিয়ে এসেছেন। খেতে খেতে আমার মুখে নৈশ অভিযানের গল্প খুব মন দিয়ে শুনলেন। বললেন – “দারোগা সাহেব এরূপ কোনদিন আর করবেন না। এই বিলে প্রতি বৎসরই দুই-তিনটি দুর্ঘটনা হয়। পুলিশ হলেও তো আপনাদের ভিতর মানুষের আত্মা রয়েছে। আপনার অল্প বয়স…” ইত্যাদি।  

আমি হাজী সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালাম। ভুটোকে নিয়ে এল। সারা রাত্রির ধকল সে সামলে নিয়েছে। এখন বেশ তাজা। বুঝলাম হাজীসাহেব ওকেও ভাল খাবার দিয়েছে। আমার কাছে এসে আমাকে আদর করল। আমিও প্রতিদান করে উঠে বসলাম। প্রায় দশটায় থানায় পৌঁছে গেলাম। মোয়াজ্জম দেখেই বলে উঠল -“আমি জানি ঠাকুর, তুমি তেথুলিয়া গেলে আর আসতে চাও না। কথা শুনে আমার উত্তর দেবার প্রবৃত্তি হোল না। ভুটোকে ছেড়ে দিয়ে বাসায় চলে এলাম।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s